ঠাকুরগাঁয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় একসঙ্গে চার সন্তানের জন্ম দিয়েছেন মুন্নি নামে এক গৃহবধূ। তবে দুঃখজনকভাবে, জন্মের পরপরই চার নবজাতকই মারা গেছে।
বুধবার (১২ মার্চ) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ঠাকুরগাঁও শহরের রেইনবো হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে মুন্নি তিন মেয়ে ও এক ছেলে সন্তান প্রসব করেন। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্নি উপজেলার একটি গ্রামের বাসিন্দা এবং এটি তার প্রথম সন্তান জন্মদান।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নবজাতকরা অপরিণত (প্রিম্যাচিউর) ছিল এবং তাদের ওজন ছিল স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম। ধারণা করা হচ্ছে, গর্ভকাল পূর্ণ হওয়ার আগেই প্রসব হওয়ায় তাদের বাঁচানো সম্ভব হয়নি। চিকিৎসকরা বলেন, “এ ধরনের ক্ষেত্রে নবজাতকদের বিশেষায়িত চিকিৎসার প্রয়োজন হয়, যা সবসময় সহজলভ্য হয় না।”
সিজারিয়ান অপারেশনের পর মুন্নি বর্তমানে শঙ্কামুক্ত রয়েছেন। ধীরে ধীরে সুস্থ হয়ে ছেন এবং তাকে চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
একসঙ্গে চার সন্তান জন্ম নেওয়ার খবরে পরিবারে যেমন আনন্দের ঢেউ উঠেছিল, নবজাতকদের হারিয়ে তারা গভীর শোকে ভেঙে পড়েছেন। মুন্নির স্বামী এবং পরিবারের সদস্যরা সন্তানদের হারানোর বেদনা কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছেন, তবে মুন্নির সুস্থতার জন্য তারা আশাবাদী।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা বলছেন, একসঙ্গে একাধিক সন্তানের জন্ম (মাল্টিপল প্রেগন্যান্সি) সাধারণত ঝুঁকিপূর্ণ হয়। বিশেষ করে যদি সঠিক পর্যবেক্ষণ ও যত্ন না নেওয়া হয়। প্রিম্যাচিউর শিশুরা জন্মের পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ঝুঁকিতে থাকে এবং উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তাদের বাঁচিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়ে।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় এলাকাবাসীর মধ্যেও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। মুন্নির সুস্থতার জন্য তারা প্রার্থনা করছেন এবং তার পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা প্রকাশ করেছেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন