তারেক রহমান বলেছেন, সারাদেশে ২০ হাজার কিলোমিটার খাল পুনঃখননের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এর মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
শনিবার বেলা আড়াইটার দিকে শাহরাস্তি উপজেলার ওয়ারুক বাজার এলাকায় খোর্দ্দ খাল পুনঃখনন কার্যক্রমের উদ্বোধন শেষে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ রয়েছে। আমরা উৎপাদন আরও বাড়াতে চাই, যাতে খাদ্যের জন্য কাউকে কষ্ট পেতে না হয়। বাংলাদেশের মাটি অত্যন্ত উর্বর। সময়মতো সেচ দিতে পারলে ভালো ফসল উৎপাদন সম্ভব।”
তিনি বলেন, নির্বাচনের আগেই খাল পুনঃখননের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল। খাল খননের মাধ্যমে কৃষকরা উপকৃত হবেন এবং ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী হয়ে উঠবেন। কৃষকদের উন্নতি হলে দেশের অর্থনীতিও শক্তিশালী হবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, নির্বাচনের আগে দেওয়া প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীদের স্বাবলম্বী করতে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে একজন মা আড়াই হাজার টাকা পাবেন, যা পরিবারের সন্তানদের যত্ন ও স্বাস্থ্যসেবায় ব্যয় করা যাবে। তিনি জানান, অন্তর্বর্তী সরকারের বাজেট থেকে এই কর্মসূচি পরিচালিত হচ্ছে এবং আগামী বাজেটে এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
নারী শিক্ষার প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের অর্ধেক জনগোষ্ঠী নারী। দেশনেত্রী পূর্বে নারীদের শিক্ষার উন্নয়নে কাজ করেছেন। উচ্চমাধ্যমিক পর্যন্ত মেয়েদের বিনামূল্যে পড়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল। আমাদের সরকার স্নাতক পর্যন্ত নারীদের বিনামূল্যে পড়াশোনার ব্যবস্থা করবে। পাশাপাশি মেধাবী শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তি দেওয়া হবে।”
তিনি আরও বলেন, “নারীদের স্বাবলম্বী না করে দেশকে এগিয়ে নেওয়া সম্ভব নয়।” বিএনপি সরকারের বিভিন্ন প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল পুনঃখনন, তরুণদের প্রশিক্ষণ ও কর্মসংস্থানের মাধ্যমে শহীদদের আত্মত্যাগের মর্যাদা রক্ষা করা সম্ভব হবে।
সমাবেশে উপস্থিত সবার উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ৪০ কোটি হাত একসঙ্গে কাজ করলে দেশকে বিশ্বের বুকে মর্যাদাশীল রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলা সম্ভব।”
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মমিনুল হক। উপস্থিত ছিলেন আ ন ম এহছানুল হক মিলন, আসাদুল হক দুলু, সলিম উল্যাহ সেলিম, আয়াত আলী ভুঁইয়াসহ বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।
মন্তব্য করুন