ইসরায়েলের দিকে একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে ইরান। এ ঘটনায় উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন এলাকায় সতর্কতামূলক সাইরেন বেজে ওঠে এবং দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা তাৎক্ষণিকভাবে সক্রিয় করা হয় বলে জানিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী।
ইসরায়েলের দাবি, লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে পরিচালিত সাম্প্রতিক বিমান হামলার পরপরই এই ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়। ওই অভিযানে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর বিভিন্ন স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে তেল আবিব।
ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, ইরান থেকে ছোড়া বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র আকাশেই প্রতিহত করার চেষ্টা করা হয়েছে। হামলার পর দেশজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য নতুন হামলার আশঙ্কায় সেনাবাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, লেবাননে ইসরায়েলের সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকলে আরও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। তেহরানের অভিযোগ, বৈরুতে সাম্প্রতিক হামলার মাধ্যমে ইসরায়েল অঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, গত এপ্রিলে কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর এই প্রথম ইরান সরাসরি ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করল। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে বলে মনে করছেন তারা।
এদিকে পরিস্থিতি গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। পর্যবেক্ষকদের আশঙ্কা, আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বৃদ্ধি পেলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার ও আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার ওপরও নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
মন্তব্য করুন