মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়েছে। ইসরাইলি বাহিনীর সাম্প্রতিক বিমান হামলায় গাজায় ৬০০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছেন আরও শতাধিক। তবে এই হামলার জন্য হামাসকে দায়ী না করে, বরং ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সরকারকেই কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে দেশটির অন্যতম প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম হারেৎজ।
এক সম্পাদকীয়তে হারেৎজ সরাসরি বলেছে, “যুদ্ধবিরতির চুক্তি বাস্তবায়নে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল, হামাস নয়।” গত ১৯ জানুয়ারি কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতি ও বন্দিবিনিময় চুক্তি অনুযায়ী গাজায় সাময়িক শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। কিন্তু গত ১৮ মার্চ ইসরাইল নতুন করে বিমান হামলা শুরু করে। আলজাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এতে ব্যাপক প্রাণহানি হয়েছে, যা চুক্তির সরাসরি লঙ্ঘন।
ইসরাইলি সরকার অবশ্য দাবি করছে, হামাস যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো ও বন্দিবিনিময়ের প্রস্তাব বারবার প্রত্যাখ্যান করায় তারা এই হামলা শুরু করতে বাধ্য হয়েছে।
কিন্তু হারেৎজ তাদের প্রতিবেদনে একে সম্পূর্ণ “মিথ্যাচার” বলে উল্লেখ করেছে।
যুদ্ধবিরতির ১৬তম দিনে চুক্তির দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনা শুরুর কথা ছিল, যেখানে সব বন্দিদের মুক্তি নিশ্চিত করার শর্ত ছিল। কিন্তু ইসরাইল নিজেই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। চুক্তি অনুযায়ী ইসরাইলকে গাজা ও মিশরের সীমান্তে থাকা ফিলাডেলফি করিডোর থেকে সেনা প্রত্যাহার করতে হতো। কিন্তু ইসরাইল সেই প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করেছে। মানবিক সহায়তা প্রবেশের পথ বন্ধ করে দিয়েছে ইসরাইলি কর্তৃপক্ষ, যা চুক্তির শর্তের সম্পূর্ণ বিপরীত।
হারেৎজ আরও বলেছে, “নেতানিয়াহু প্রথম ধাপের মেয়াদ বাড়াতে চেয়েছিলেন, কিন্তু দ্বিতীয় ধাপ নিয়ে আলোচনায় বসতে রাজি হননি।” মার্কিন কূটনীতিকের প্রস্তাব ও নেতানিয়াহুর ‘কৌশল’ হারেৎজের প্রতিবেদনে মার্কিন দূত স্টিভ উইটকফের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলা হয়েছে।
ইসরাইলের দাবি, উইটকফের যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর প্রস্তাব হামাস প্রত্যাখ্যান করায় তারা হামলা চালিয়েছে। কিন্তু হারেৎজ বলছে, এই প্রস্তাবগুলো এমনভাবে দেওয়া হয়েছিল, যেখানে ইসরাইলের চুক্তি মানার কোনো বাধ্যবাধকতা রাখা হয়নি। ফলে হামাস তা প্রত্যাখ্যান করে।
হামাস পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছে, তারা এমন কোনো চুক্তি মানবে না যেখানে গাজা থেকে ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার ও স্থায়ী যুদ্ধবিরতির নিশ্চয়তা থাকবে না।
বিশ্লেষকরা বলছেন, হারেৎজের মতো একটি প্রভাবশালী ইসরাইলি সংবাদমাধ্যম যখন প্রকাশ্যে নেতানিয়াহুর সমালোচনা করছে, তখন ইসরাইল সরকার আন্তর্জাতিক ও অভ্যন্তরীণ চাপের মুখে পড়তে পারে। এখন দেখার বিষয়, এই সংকট নতুন কোনো সমঝোতায় গড়ায় নাকি সংঘাত আরও ভয়াবহ রূপ নেয়।
মন্তব্য করুন