বাংলাদেশে সাম্প্রতিক ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ উঠেছে ব্রিটিশ এমপি ও শেখ রেহানার মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) তার সংশ্লিষ্টতার প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছে বলে জানা গেছে। এ ছাড়া, ব্যক্তিগতভাবে আর্থিক কেলেঙ্কারিতেও জড়িত থাকার তথ্য তদন্তে উঠে এসেছে।
দুদকের এই তদন্তের মধ্যে টিউলিপ সিদ্দিক নিজেই তার আইনি লড়াইয়ের প্রস্তুতির ঘোষণা দিয়েছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই নিউজ বুধবার (২ এপ্রিল) এক প্রতিবেদনে জানায়, টিউলিপের আইনজীবীরা বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতির অভিযোগ মোকাবিলায় প্রস্তুত।
স্কাই নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে টিউলিপ বলেন, “কয়েক মাস ধরে অভিযোগ আসছে, কিন্তু কেউ আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি।” তিনি আরও বলেন, “আপনি আমার আইনি চিঠিটি দেখুন। সেখানে স্পষ্ট আছে, আমার কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার দরকার আছে কি না। বাংলাদেশী কর্তৃপক্ষ এখনো আমার সঙ্গে যোগাযোগ করেনি, আমি তাদের কাছ থেকে শোনার জন্য অপেক্ষা করছি।”
এর আগে, ব্রিটেনের লেবার পার্টির অর্থনৈতিক মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে যুক্তরাজ্যের আর্থিক দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের কাজ ছিল তার। তবে, নিজেই দুর্নীতির অভিযোগে জড়ানোর পর তিনি পদত্যাগে বাধ্য হন।
টিউলিপ সিদ্দিকের পদত্যাগের পর তার পরিবারের বিরুদ্ধে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগ সামনে আসতে শুরু করে। শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর দুদক নতুন করে তদন্ত শুরু করলে এসব দুর্নীতির প্রমাণ পাওয়া যায়।
বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে টিউলিপের সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেনের তথ্য,বৈদেশিক লেনদেনের মাধ্যমে সম্পদের অসঙ্গতি, শেখ পরিবারের সদস্যদের বিভিন্ন দুর্নীতির যোগসূত্র
টিউলিপ নিজেকে নির্দোষ দাবি করে প্রচার চালাচ্ছেন এবং তার পক্ষে শক্তিশালী আইনজীবী দল নিয়োগ করেছেন। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসি মার্চের শেষদিকে জানায়, তার আইনজীবীরা বাংলাদেশের দুদককে একটি আনুষ্ঠানিক চিঠি পাঠিয়েছেন।
এই ঘটনা শুধু বাংলাদেশের রাজনীতিতেই নয়, ব্রিটিশ রাজনীতিতেও আলোড়ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক মহলে শেখ পরিবারের বিরুদ্ধে দুর্নীতির নতুন বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে, যা বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ কূটনৈতিক অবস্থানেও প্রভাব ফেলতে পারে।
বাংলাদেশের দুদক তদন্ত অব্যাহত রেখেছে। টিউলিপ ও তার পরিবারের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা হবে দেশের ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত দুর্নীতিবিরোধী পদক্ষেপ।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন