ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রাজশাহী বিভাগ থেকে ডাক পাওয়া মনোনয়নপ্রত্যাশী নেতাদের দলীয় ঐক্য ও সংহতি রক্ষায় কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসনের গুলশান কার্যালয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় তিনি এ নির্দেশনা দেন।
সভায় উপস্থিত একাধিক মনোনয়নপ্রত্যাশীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তারেক রহমান বলেন— “বিএনপির সামনে প্রতিনিয়ত নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ আসছে। এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় ধৈর্য, শৃঙ্খলা ও ঐক্য বজায় রেখে কাজ করতে হবে। আগামী নির্বাচন কঠিন হবে, তাই সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের সর্বদা ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।”
তিনি আরও বলেন, “দলের ভাবমূর্তি রক্ষা করতে সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। মনে রাখতে হবে— ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, আর বিএনপি জনগণের দল। জনগণের জন্য আমাদের অনেক কাজ করতে হবে, সেই প্রস্তুতি এখন থেকেই নিতে হবে।”
দলীয় সূত্র জানায়, আগের দিন হঠাৎ বার্তা পাঠিয়ে রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের তালিকাভুক্ত মনোনয়নপ্রত্যাশীদের গুলশান কার্যালয়ে উপস্থিত হতে বলা হয়। বিএনপির রাজশাহী বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত ও সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ওবায়দুর রহমান চন্দনের মাধ্যমে এই বার্তা পাঠানো হয়।
সভায় ভিডিও কলে যুক্ত হয়ে দিকনির্দেশনামূলক বক্তব্য দেন তারেক রহমান। সেখানে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ, ইকবাল মাহমুদ টুকু ও সেলিমা রহমান। তবে সভায় কোনো মনোনয়নপ্রত্যাশীকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
সূত্রমতে, রাজশাহী বিভাগের ৩৯ আসনের প্রতিটি থেকে গড়ে তিন থেকে চারজন করে মনোনয়নপ্রত্যাশীকে ডাকা হয়েছিল। কোনো কোনো আসন থেকে একজনকেও ডাকা হয়। বিভাগের আট জেলায় মোট ১৩১ জন প্রার্থী এই বৈঠকে অংশ নেন।
রাজশাহী-২ (মহানগর) আসন থেকে ডাকা হয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা মিজানুর রহমান মিনু ও মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক বীরমুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশাকে। নাটোর-২ আসন থেকে একমাত্র ডাকা হয় চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলুকে।
সভা শেষে অনেক মনোনয়নপ্রত্যাশী এলাকায় ফিরে গণসংযোগ শুরু করেছেন, আবার অনেকে ঢাকায় থেকে কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াচ্ছেন।
রাজশাহী-২ আসনের মনোনয়নপ্রত্যাশী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, “ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আমাদের বলেছেন— অতিরিক্ত উৎসাহী না হয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত না আসা পর্যন্ত সংগঠনের কাজে মনোযোগ দিতে হবে। দল যাদের মনোনয়ন দেবে, তাদেরকে দলীয় আমানত মনে করে সেই দায়িত্ব রক্ষায় সবাইকে মাঠে থাকতে হবে।”
রাজশাহী মহানগর বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট এরশাদ আলী ইশা বলেন, “তারেক রহমান স্পষ্ট করে বলেছেন— যাদের ডাকা হয়েছে তারা যেন এলাকায় গিয়ে না বলেন যে মনোনয়ন পেয়ে গেছেন। এতে ভুল বার্তা যেতে পারে এবং দলের ঐক্য ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।”
মন্তব্য করুন