রাজধানী ঢাকা থেকে জানানো হয়েছে, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ অভিযোগ করেছেন যে, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস নিজের সই করা জুলাই জাতীয় সনদ লঙ্ঘন করেছেন। বৃহস্পতিবার (১৩ নভেম্বর) দুপুর সাড়ে তিনটার দিকে প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে ভাষণের পর এই দাবি উত্থাপন করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, “গত ১৭ অক্টোবর জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় প্রধান উপদেষ্টা নিজে যে জুলাই জাতীয় সনদে স্বাক্ষর করেছিলেন, সেই সনদ তিনি নিজের সাম্প্রতিক ভাষণের মাধ্যমে লঙ্ঘন করেছেন।”
প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বৃহস্পতিবার দুপুর আড়াইটার দিকে জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত পরিকল্পনা তুলে ধরেন। তিনি জানান, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট একই দিনে অনুষ্ঠিত হবে। সংসদ দুই কক্ষ বিশিষ্ট হবে এবং নির্বাচনে দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে ১০০ সদস্য বিশিষ্ট একটি উচ্চকক্ষ গঠিত হবে। সংবিধান সংশোধনের জন্য উচ্চকক্ষের সংখ্যাগরিষ্ঠ অনুমোদন প্রয়োজন হবে।
এ বিষয়ে সালাহউদ্দিন আহমদ মন্তব্য করেন, “জাতীয় সংসদের উচ্চকক্ষ নিয়ে যেসব প্রস্তাব এসেছে, তা পূর্বে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের মাধ্যমে পিআর নোট অব ডিসেন্টের মাধ্যমে মীমাংসিত হয়েছিল। এটি নতুনভাবে আরোপ করার কোনো সুযোগ নেই। এছাড়া ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ’ নামে যে নতুন বডি গঠনের কথা বলা হয়েছে, তা জাতীয় সংসদের কোনো পর্যায়ে আলোচনা হয়নি এবং এটি সম্পূর্ণ নতুন ধারণা।”
সালাহউদ্দিন আহমদ বিএনপির প্রতিনিধিত্ব করেছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের দীর্ঘ আলোচনায়। তিনি জানান, প্রধান উপদেষ্টার এই ভাষণের ওপর দলের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হবে। পাশাপাশি, বিএনপি স্থায়ী কমিটির জরুরি বৈঠক রাতে ডাকা হয়েছে।
রাজনীতিবিদদের মতে, এই ঘটনাটি আগামী গণভোট এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়াতে পারে। এছাড়া, এটি সংবিধান সংস্কারের বাস্তবায়ন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে সরকারের সঙ্গে প্রধান বিরোধী দলের সম্ভাব্য দ্বন্দ্বের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
মন্তব্য করুন