চিকিৎসা সেবার কেন্দ্রবিন্দুতে অচলাবস্থা — সারা দেশের সরকারি হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজে কর্মবিরতিতে নেমেছেন চিকিৎসক ও মেডিকেল শিক্ষার্থীরা। পাঁচ দফা দাবিতে টানা আন্দোলনের অংশ হিসেবে, জরুরি বিভাগের বাইরে প্রায় সব চিকিৎসা কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ রোগী ও তাদের পরিবার।
মঙ্গলবার(১১ মার্চ) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে বিক্ষোভ শেষে সংবাদ সম্মেলনে ধর্মঘটের ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসক নাদিম হোসাইন। তিনি জানান, বুধবার(১২ মার্চ) সকাল থেকে ইনডোর ও আউটডোর সেবা বন্ধ থাকবে, তবে মানবিক বিবেচনায় আইসিইউ, সিসিইউ, লেবার রুম ও জরুরি সেবা চালু থাকবে।
শহীদ সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের বহির্বিভাগে সকাল থেকেই দেখা গেছে দীর্ঘ লাইন। অনেকেই না বুঝে অপেক্ষা করেছেন ঘণ্টার পর ঘণ্টা, আবার কেউ কেউ চিকিৎসা না পেয়ে হতাশ হয়ে ফিরেছেন। একই চিত্র দেশের অন্যান্য হাসপাতালেও — ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব নিউরোসায়েন্সেস, নিটোরসহ বেশ কিছু স্থানে দেরিতে হলেও আংশিক চিকিৎসা কার্যক্রম শুরু হয়।
একজন রোগীর স্বজন বলেন, “ভোর থেকেই লাইনে দাঁড়িয়ে আছি, ডাক্তার না থাকায় কী করব বুঝতে পারছি না। গ্রামের বাড়ি থেকে এসেছি, আবার ফেরাও সম্ভব নয়।”
চিকিৎসকরা বলছেন, তাদের পাঁচ দফা দাবি পূরণ না হলে আন্দোলন আরও কঠোর হবে। দাবি গুলোর মধ্যে রয়েছে — ইন্টার্ন চিকিৎসকদের ভাতা বাড়ানো, নিরাপত্তার নিশ্চয়তা, আবাসনের উন্নতি, পর্যাপ্ত ওষুধ সরবরাহ, এবং স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বৃদ্ধির দাবি। আন্দোলনকারীদের মতে, এসব দাবির বাস্তবায়ন না হলে সাধারণ মানুষের চিকিৎসা পাওয়াও আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আলোচনা চলছে। তবে দাবি পূরণের ব্যাপারে এখনো কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
এদিকে, চিকিৎসা সেবা বন্ধ থাকায় রোগীদের দুর্ভোগ লাঘবে দ্রুত সমাধান চাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। অনিশ্চয়তার মধ্যে অপেক্ষা করছে লাখো রোগীর জীবন। আন্দোলনের পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নির্ধারণ করবে দেশের চিকিৎসা সেবার ভবিষ্যৎ।
মন্তব্য করুন