ডেস্ক রিপোর্ট | দেশ ২৪
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে প্রশাসনের শীর্ষ পদগুলোতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগের যে প্রবণতা শুরু হয়েছিল, তা সমালোচনা ও বিতর্ক সত্ত্বেও থামেনি। দলীয় আনুগত্য ও অনিয়মের অভিযোগ সত্ত্বেও এই চর্চা অব্যাহত রেখেছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারও। প্রশাসনে ন্যায্যতা ও দক্ষতা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার থাকলেও সেই পথে কার্যকর অগ্রগতি দেখা যাচ্ছে না।
আওয়ামী লীগের শাসনামলে একাধিকবার চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়—যেখানে দক্ষতার চেয়ে প্রাধান্য পেয়েছে আনুগত্য। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পরও একই কৌশল অনুসরণ করে ২২ জন সাবেক কর্মকর্তাকে সচিব পদে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগসহ ২২টি মন্ত্রণালয় ও বিভাগে বসানো হয়েছে চুক্তিভিত্তিক সচিব।
চুক্তিভিত্তিক নিয়োগপ্রাপ্ত বেশিরভাগ কর্মকর্তা বহু বছর আগে অবসরে যাওয়া ১৯৮২ ব্যাচের সাবেক অতিরিক্ত সচিব। অনেকেই এখনকার প্রযুক্তিনির্ভর প্রশাসনিক কাঠামোর সঙ্গে খাপ খাওয়াতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
জনপ্রশাসন বিশেষজ্ঞ একেএম আব্দুল আউয়াল মজুমদার জানান, চুক্তিভিত্তিক নিয়োগে স্বজনপ্রীতি ও আঞ্চলিকতা মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। তার মতে, সরকার যোগ্যতার মূল্যায়নে ব্যর্থ হচ্ছে এবং এর ফলে প্রশাসনে হতাশা, বৈষম্য ও কার্যকারিতার সংকট তৈরি হয়েছে।
চুক্তিভিত্তিক সচিবদের মধ্যে কেউ যুগ্ম সচিব হিসেবে অবসরে গেছেন, কেউ অতিরিক্ত সচিব। তাদের নিয়োগে একদিকে যেমন প্রশ্ন উঠেছে দক্ষতা নিয়ে, অন্যদিকে এই নিয়োগ আদৌ কতটা ন্যায্য—সেটি নিয়েও দ্বিমত রয়েছে প্রশাসনের ভেতরে।
খাদ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব হিসেবে নিয়োগ পাওয়া ইলাহী দাদ খানের চুক্তি একদিনেই বাতিল হয় বিতর্কের মুখে। একইভাবে, তরুণ মুখপাত্র আবু আবিদের নিয়োগও মাত্র দুদিনের মাথায় বাতিল করে সরকার। এসব ঘটনায় নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা ও যাচাইয়ের প্রশ্ন উঠেছে।
প্রশাসনের গতিশীলতা ও বিশ্বাসযোগ্যতা নিশ্চিত করতে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা, যোগ্যতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে। বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু দলীয় আনুগত্য নয়, বরং দক্ষতা ও দৃষ্টিভঙ্গির ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে না পারলে প্রশাসনের বিশ্বাসযোগ্যতা ও কার্যকারিতা আরও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন