
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, গণহত্যার বিচার এবং গ্রেপ্তারের বিষয়ে গণঅধিকার পরিষদ কোনো আপস করবে না বলে জানিয়েছেন দলটির সাধারণ সম্পাদক মো. রাশেদ খান।
মঙ্গলবার (১১ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর বিজয়নগরে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ মন্তব্য করেন।
লিখিত বক্তব্যে রাশেদ খান বলেন, “আমরা গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে একের পর এক আন্দোলন সরকারের স্থিতিশীলতার পথে ব্যাঘাত সৃষ্টি করছে। এরই ধারাবাহিকতায়, গত ৫ ফেব্রুয়ারি দেশের বিভিন্ন স্থানে বুলডোজার দিয়ে ধানমন্ডি ৩২সহ সারা দেশে বাড়িঘরে ভাঙচুর চালানো হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “এতে প্রমাণিত হয়েছে যে, হয় সরকারের প্রত্যক্ষ ইন্ধন/সহযোগিতায় এসব ঘটনা সংগঠিত হয়েছে, অথবা সরকার এসব নিয়ন্ত্রণ করতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে। এখন জনগণের মনে প্রশ্ন, সিটি করপোরেশন বা সরকারি বুলডোজার কারা সরবরাহ করল? এই ঘটনার কারণে বাংলাদেশ সম্পর্কে আন্তর্জাতিক মহলে নেতিবাচক বার্তা গেছে। তারা ভাববে মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত সরকার বাংলাদেশকে এখনো স্থিতিশীল করতে পারেনি।”
গণঅধিকার পরিষদের নেতা বলেন, “এছাড়া, গাজীপুরে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শিক্ষার্থীরা আক্রান্ত হওয়ার পর অপারেশন ডেভিল হান্ট শুরু হয়েছে। কিন্তু আমরা এখনো সেনাবাহিনীর কাছে আশ্রয় নেওয়া ৬২৬ জনের অবস্থান সম্পর্কে জানি না।”
রাশেদ খান বলেন, “বর্তমান সরকারের কার্যক্রমের মধ্যে গুম-খুন এবং নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার পাশাপাশি সরকারের বিরুদ্ধে নিত্যনতুন অভিযোগ উঠছে।” তিনি বলেন, “তবে আমরা গণহত্যার বিচার এবং আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়ে কোনো আপস করতে চাই না।”
তিনি আরও জানান, ১৪ ফেব্রুয়ারি বিকেল সাড়ে ৩টায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা, গণহত্যার বিচার এবং গণহত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে গণঅধিকার পরিষদ একটি বিক্ষোভ সমাবেশ করবে। এছাড়া, ১২ থেকে ১৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দেশব্যাপী লিফলেট বিতরণ এবং গণসংযোগ করা হবে। ১৯ ফেব্রুয়ারি জেলায় জেলায় ৫ দফা দাবিতে বিক্ষোভ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।
এসময় রাশেদ খান গণঅধিকার পরিষদের পক্ষ থেকে ৫ দফা দাবি তুলে ধরেন:
১. জুলাই-আগস্টের বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনসহ বিগত ১৬ বছরের গণতান্ত্রিক আন্দোলনে আহত, ক্ষতিগ্রস্ত ও শহীদদের সঠিক তালিকা তৈরি, ক্ষতিপূরণ এবং যথাযথ চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা।
২. জুলাই গণহত্যায় জড়িত বিদেশে পলাতক গণহত্যার মাস্টারমাইন্ড শেখ হাসিনাসহ সকলকে আইনের আওতায় এনে বিচারের মুখোমুখি করা এবং বিচারের প্রক্রিয়ায় গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের রাজনীতি নিষিদ্ধ করা।
৩. ফ্যাসিবাদের আমলে উন্নয়নের নামে লুটপাট, অর্থ পাচারে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বিচার নিশ্চিত করা।
৪. জনআকাঙ্ক্ষার নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে রাষ্ট্র সংস্কার ও জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে কার্যকর সংস্কার নিশ্চিত করতে অভ্যুত্থানের অংশীজনদের নিয়ে উপদেষ্টা পরিষদ পুনর্গঠন ও নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করা।
৫. বিগত ১৬ বছরে ফ্যাসিস্ট হাসিনার রেজিমে সংগঠিত গুম-খুন ও ২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪ সালের ভুয়া নির্বাচনের সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে বিচার নিশ্চিত করা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন গণঅধিকার পরিষদের সহসভাপতি ফারুক হাসান, উচ্চতর পরিষদের সদস্য আবু হানিফ, হাবিবুর রহমান রিজু, সহ সভাপতি মাজেদুল ইসলাম, যুগ্ম সাধারণ জিলু খান, আবদুল্লাহ, প্রচার সম্পাদক শহিদুল ইসলাম, যুব ক্রীড়া সম্পাদক ইলিয়াস মিয়া, যুব অধিকার পরিষদের সাংগঠনিক সম্পাদক মুনতাজুল ইসলাম প্রমুখ।
মন্তব্য করুন