
বাংলাদেশের ইতিহাসের এক বিশেষ দিন হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি জাতীয় জীবনে অম্লান চেতনার প্রতীক হয়ে আছে। ভাষা আন্দোলন, যার মাধ্যমে রক্তাক্ত সংগ্রামের মধ্য দিয়ে মাতৃভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সে আন্দোলন থেকে গণতান্ত্রিক অধিকার এবং জাতীয় মুক্তির সংগ্রাম শুরু হয়েছিল। ২১ ফেব্রুয়ারির আত্মত্যাগী শহীদদের রক্তে রঞ্জিত এ দিনটি শুধু দেশের ভাষার মর্যাদা রক্ষা করেনি, বরং দেশটির মুক্তি ও গণতান্ত্রিক অধিকার অর্জনের পথে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান, তারেক রহমান, ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে নিজের ফেসবুক পেজে দেওয়া এক বাণীতে বলেন, “একুশের অম্লান চেতনা আমাদের উদ্বুদ্ধ করবে, যাতে আমরা গণতন্ত্র, স্বাধীনতা এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় সার্বক্ষণিক সজাগ থাকি।” তিনি ভাষা শহীদদের গভীর শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করে বলেন, “রক্তরাঙ্গা ২১ ফেব্রুয়ারি আমাদের জাতীয় মুক্তির প্রথম সোপান রচনা করেছিল।” তার মতে, ভাষা আন্দোলন দেশের জাতীয়তাবাদ এবং ঐক্যের অনুভূতি সৃষ্টি করেছিল যা আজও দেশের গণতান্ত্রিক সংগ্রামে উৎসাহ যোগায়।
তারেক রহমান আরও বলেন, ২১ ফেব্রুয়ারির দিনটি শুধুমাত্র ভাষার অধিকার প্রতিষ্ঠার দিন নয়, এটি বাংলাদেশের জনগণের বৃহত্তর সংগ্রামের সূচনা করেছে। এই আন্দোলনের মাধ্যমেই গণতান্ত্রিক স্বাধিকার এবং দেশের স্বাধীনতার পথ প্রস্তুত হয়েছিল। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের পর, দেশের মানুষের মনোভাব এবং ঐক্য আরো দৃঢ় হয়ে ওঠে এবং একুশের চেতনা তখন থেকেই সকল সংগ্রামের উৎস হয়ে দাঁড়ায়।
এদিকে, তারেক রহমান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের স্মরণে তাদের আত্মত্যাগের জন্য শ্রদ্ধা জানিয়ে বলেন, “তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আজ আমরা স্বাধীনতার আনন্দ উপভোগ করছি এবং গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষা করতে সক্ষম হচ্ছি।” তিনি আরও বলেন, “গণতন্ত্র ও স্বাধীনতা যেন আর কখনো কঠিন শৃঙ্খলে বন্দি না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে আমাদের। একুশের পথ ধরেই দীর্ঘ সংগ্রামের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক স্বাধিকার অর্জিত হয়েছে।”
ভাষা আন্দোলন এবং একুশের চেতনা শুধুমাত্র বাংলাদেশের ইতিহাসেই নয়, আন্তর্জাতিকভাবে মাতৃভাষার মর্যাদা রক্ষার আন্দোলন হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছে। এর ফলে বাংলাদেশে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বব্যাপী পালিত হয়, যা একুশের সংগ্রামকে বিশ্বের নানা প্রান্তে ছড়িয়ে দিয়েছে।
তারেক রহমান ভাষা আন্দোলনের শহীদদের রুহের মাগফিরাত কামনা করে তাদের শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান। পাশাপাশি ভাষাসৈনিকদের শ্রদ্ধা ও অভিনন্দন জানান এবং তাদের পরিবারের সুখ, শান্তি ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।
এদিকে, তারেক রহমানের বক্তব্যে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য যে, গণতান্ত্রিক শক্তির মধ্যে ঐক্য ও সজাগতা বজায় রেখে দেশে প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হবে, যা একুশের চেতনায় এবং ভাষা শহীদদের আত্মত্যাগের আদর্শে উদ্বুদ্ধ হয়ে সম্ভব হবে।
মন্তব্য করুন