চুয়াডাঙ্গায় পারিবারিক কলহের জেরে চরম এক ট্র্যাজেডি ঘটেছে। মাত্র ১৬ বছর বয়সী এক কিশোর মোবাইল গেমস খেলা নিয়ে বিরোধের জেরে নিজের বাবাকে নির্মমভাবে হত্যা করেছে। শনিবার (২২ মার্চ) রাতে চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার পলাশপাড়ায় নিজ বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
নিহত ব্যক্তি দোদুল হোসেন (৫৩), যিনি ইতালি প্রবাসী ছিলেন। তার ছেলে রিফাত (১৬) মোবাইল গেমসে আসক্ত ছিল। পিতার বারবার নিষেধ সত্ত্বেও সে মোবাইল গেমস খেলা চালিয়ে যাচ্ছিল। একপর্যায়ে ক্ষুব্ধ হয়ে দোদুল হোসেন ছেলের কাছ থেকে মোবাইলটি কেড়ে নেন।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি খালেদুজ্জামান খালেদুর রহমান জানান, মোবাইল নিয়ে নেওয়ার ঘটনায় রিফাত প্রচণ্ড ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। এরপর দোদুল হোসেন যখন নামাজে দাঁড়িয়ে ছিলেন, তখন পেছন দিক থেকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার ওপর হামলা চালায়।
গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা দোদুল হোসেনকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। তবে চিকিৎসকরা তাকে বাঁচাতে ব্যর্থ হন। সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. তারেক জুনায়েত জানান, নিহতের শরীরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন ছিল।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি আরও জানান, হত্যাকাণ্ডের পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত রিফাতকে আটক করেছে। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
এই ঘটনা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল যে, প্রযুক্তির প্রতি অতি আসক্তি কতটা ভয়াবহ পরিণতি ডেকে আনতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিশোরদের প্রযুক্তি ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ না থাকলে পারিবারিক ও সামাজিক মূল্যবোধের অবক্ষয় ঘটতে পারে।
এ ধরনের ঘটনা এড়াতে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল ও সচেতন হতে হবে। শুধুমাত্র শাসন নয়, বরং তাদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে, মনস্তাত্ত্বিকভাবে বোঝানোর মাধ্যমে সমস্যার সমাধান খোঁজাই হতে পারে উত্তম উপায়।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন