রমজান শুরু হতেই রংপুর নগরবাসীর নিত্যসঙ্গী হয়ে উঠেছে তীব্র যানজট। রাস্তা দখল করে গড়ে ওঠা অসংখ্য অবৈধ দোকান-পাট, নিয়ন্ত্রণহীন নিবন্ধনহীন অটোরিকশা আর ট্রাফিক পুলিশের অনুপস্থিতিতে দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে। শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ, এমনকি অ্যাম্বুলেন্সের রোগীরাও পড়ছেন চরম বিপাকে।
সরেজমিনে দেখা যায়, পায়রা চত্বর, জাহাজ কোম্পানি মোড়, বেতপট্টি, ফায়ার সার্ভিস মোড়সহ শহরের গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতে সকাল থেকেই গাড়ির দীর্ঘ সারি। রমেক হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্স চালক মেরাজুল ইসলাম ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, ‘১০ মিনিটের রাস্তা পার হতে ১ ঘণ্টা লাগছে। রোগী নিয়ে কচ্ছপ গতিতে চলতে হচ্ছে, অথচ রাস্তায় ট্রাফিক পুলিশের দেখা মেলে না।’
নগরবাসীর অভিযোগ, লাইসেন্সবিহীন প্রায় ৬০ হাজার অটোরিকশা পুরো শহরের সড়ক জ্যাম করে রাখছে। অথচ অনুমোদিত অটোরিকশা মাত্র ৮,৫০০টি। এসবের সঙ্গে যোগ হয়েছে রাস্তার পাশে গজিয়ে ওঠা অসংখ্য দোকান।
মুলাটোল এলাকার বাসিন্দা জুয়েল আহমেদ বলেন, ‘১৫ মিনিটের রাস্তা পাড়ি দিতে লেগে যাচ্ছে ১ ঘণ্টা। সব অটো-রিকশা একই রাস্তায় জমে থাকে, অন্য পথে গেলে আরও বেশি জ্যামে পড়তে হয়। আমরা চাই অন্তত ঈদের আগে এই দুর্ভোগ দূর হোক।’
ট্রাফিক পুলিশের আশ্বাস, দ্রুত আলাদা লেন তৈরি ও অবৈধ পার্কিং উচ্ছেদে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মো. আব্দুর রশিদ জানান, ‘রেকার দিয়ে অবৈধভাবে পার্ক করা গাড়ি সরিয়ে মামলা দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঈদের আগে প্রতিদিন ট্রাফিক পুলিশের মনোবল বাড়াতে রোল কল করা হচ্ছে, যাতে তারা আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে পারেন।’
নগরবাসীর প্রত্যাশা, এই উদ্যোগগুলো যেন শুধু আশ্বাসেই সীমাবদ্ধ না থাকে। রংপুরবাসী চান, অন্তত ঈদের আনন্দটা যেন যানজটমুক্ত সড়কে উপভোগ করতে পারেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন