নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশোধনী বিষয়ে নীতিগত অনুমোদন দিয়েছে সরকার। দ্রুততম সময়ে তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে নতুন সংশোধনীতে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের সুপারিশ করা হয়েছে।
সোমবার (১৭ মার্চ) রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ বিষয়ে জানান বন ও পরিবেশ উপদেষ্টা রিজওয়ানা হাসান। তিনি বলেন, “প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে আজকের বিশেষ বৈঠকে সংশোধিত আইনের খসড়ার বিষয়ে নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে।”
এর আগে, গত ১২ মার্চ আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল জানান, ধর্ষণ মামলার তদন্ত ও বিচার দ্রুততর করতে সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের খসড়া তৈরি করা হয়েছে।
১২ মার্চ সচিবালয়ে ধর্ষণবিরোধী মঞ্চের নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর তিনি বলেন, “১০ ও ১১ মার্চ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সঙ্গে পরামর্শ সভা করেছি। খসড়া আইনটি তৈরি করা হয়েছে এবং কিছু স্টেকহোল্ডারের কাছে পাঠানো হয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, দ্রুততম সময়ে আইনটি কার্যকর করা।”
নতুন সংশোধনী অনুযায়ী—
ধর্ষণ মামলার তদন্তের সময়সীমা ৩০ দিন থেকে কমিয়ে ১৫ দিন করা হচ্ছে। মামলার বিচার ১৮০ দিনের পরিবর্তে ৯০ দিনের মধ্যে শেষ করার বিধান থাকছে। বিশেষ পরিস্থিতিতে ডিএনএ রিপোর্ট ছাড়াই মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে মামলার বিচার করা যাবে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, নতুন সংশোধনী কার্যকর হলে বিচারপ্রক্রিয়া অনেকটাই দ্রুত হবে। একই সঙ্গে নির্যাতিতরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি কমবে।
সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতরগুলো এখন দ্রুততম সময়ে এই আইন কার্যকর করার উদ্যোগ নিচ্ছে। সংশোধনী কার্যকর হলে দেশে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনায় অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা সহজ হবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন