তুরস্কের কৌশলগত প্রতিপক্ষ হিসেবে পরিচিত আর্মেনিয়ার সঙ্গে ‘প্রলয়’ নামের দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র বিক্রির চুক্তি চূড়ান্ত পর্যায়ে নিয়ে যাচ্ছে ভারত। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে চলা কয়েক মাসের আলোচনার পর, চলতি এপ্রিলেই এই চুক্তি সম্পন্ন হতে চলেছে বলে জানাচ্ছে ভারতের আনন্দবাজার পত্রিকা।
দেশীয় প্রযুক্তিতে তৈরি ‘প্রলয়’ ক্ষেপণাস্ত্র প্রস্তুত করেছে ভারতের ডিফেন্স রিসার্চ অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ডিআরডিও)। এটি হবে ভারতের তৈরি এই মারণাস্ত্রের প্রথম রফতানি, যা আর্মেনিয়াকে সামরিক দিক থেকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, ঘণ্টায় প্রায় ৫০০ কিলোমিটার বেগে ছুটতে সক্ষম এই ক্ষেপণাস্ত্র অত্যন্ত নিখুঁতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। বিশেষত, শত্রুর এয়ার ডিফেন্স সিস্টেম এবং অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসে ‘প্রলয়’ হতে পারে ‘গেম চেঞ্জার’। এই ক্ষেপণাস্ত্রে ৩৫০-৭০০ বা ৫০০-১০০০ কেজি ওজনের উচ্চশক্তির বিস্ফোরক বহন করা সম্ভব।
ভারতের ‘মিসাইল টেকনোলজি কন্ট্রোল রেজিম’ (MTCR) সদস্যপদ থাকায়, প্রলয়ের ২৯০ কিলোমিটার পাল্লার সংস্করণই আর্মেনিয়াকে সরবরাহ করা হবে।
এই অস্ত্র সরবরাহের পেছনে রয়েছে ককেশাস অঞ্চলের উত্তেজনাপূর্ণ ভূরাজনীতি। নাগরনো-কারাবাখ অঞ্চল নিয়ে আজারবাইজানের সঙ্গে আর্মেনিয়ার চলমান সংঘাত আরও তীব্র হয়েছে সাম্প্রতিক সময়ে। ২০২০ সালের যুদ্ধে আজারবাইজান বিতর্কিত অঞ্চলের বড় অংশ দখল করে নেয়, যা নতুন করে সামরিক প্রস্তুতির প্রেক্ষাপট তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এতদিন আর্মেনিয়ার হাতে ছিল না আজারবাইজানের ভেতরে আঘাত হানার মতো কোনো কার্যকর দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র। ভারতের কাছ থেকে ‘প্রলয়’ পেলে আর্মেনিয়া সেই ক্ষমতা অর্জন করবে—যা অঞ্চলটির সমর-সমীকরণে বড় রকমের পরিবর্তন আনতে পারে।
ঐতিহাসিক বিরোধও এই চুক্তিকে বাড়তি মাত্রা দিচ্ছে। ১৯১৫ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় তুর্কি সেনাবাহিনী আনুমানিক ১৫ লাখ আর্মেনীয়কে হত্যা করেছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই থেকে আর্মেনিয়া ও তুরস্কের মধ্যে সম্পর্ক উত্তেজনাপূর্ণ। এমন পরিস্থিতিতে তুরস্ক-ঘনিষ্ঠ আজারবাইজানের বিরুদ্ধে শক্তি সঞ্চয়ে ভারতীয় ক্ষেপণাস্ত্র হাতে পাওয়া আর্মেনিয়ার জন্য একটি কৌশলগত লাভ বলেই মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা।
No tags found for this post.
মন্তব্য করুন