আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশের ইতিহাসে সর্বোচ্চ সংখ্যক তরুণ প্রথমবারের মতো ভোট দিতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় নেদারল্যান্ডসের আন্তর্জাতিক সহযোগিতাবিষয়ক ভাইস-মিনিস্টার প্যাস্কেল গ্রোটেনহুইসের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, বিগত স্বৈরশাসনের সময়ে অনুষ্ঠিত তিনটি কারচুপির নির্বাচনে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে না পারা বিপুল সংখ্যক তরুণ এবার তাদের প্রথম ভোট দেবে—যা দেশের গণতান্ত্রিক রূপান্তরের জন্য একটি ‘ঐতিহাসিক মুহূর্ত’।
তার ভাষায়, “উত্থানকালের যে তরুণরা শহরের দেয়ালজুড়ে গ্রাফিতি ও চিত্রকর্ম এঁকেছিল, তারাই এবার ভোটের মাঠে নামবে।”
তিনি জানান, সরকারের লক্ষ্য আগামী ফেব্রুয়ারির প্রথমার্ধে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর নির্বাচন আয়োজন করা।
সাক্ষাতে আওয়ামী লীগের নির্বাচন–অংশগ্রহণ প্রসঙ্গেও আলোচনা হয়। ড. ইউনূস বলেন, দলের কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়া এবং নির্বাচন কমিশনের নিবন্ধন স্থগিতের কারণে আওয়ামী লীগ এবার জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিতে পারছে না।
এ সময় দুই নেতা কৃষি, বাণিজ্য, বিনিয়োগ, প্রযুক্তি ও যুব উন্নয়নসহ বিভিন্ন খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়ে একমত হন। বিশেষ করে তরুণ ও নারী উদ্যোক্তাদের জন্য একটি সোশ্যাল বিজনেস ফান্ড গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়।
নেদারল্যান্ডসের ভাইস-মিনিস্টার বাংলাদেশ সরকারের দ্রুত নির্বাচনী প্রস্তুতিকে প্রশংসা করে বলেন, এত স্বল্প সময়ে নির্বাচন আয়োজনের সক্ষমতা “উল্লেখযোগ্য ও ইতিবাচক”। তিনি নতুন শ্রম আইনকে ইউরোপীয় বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য সহায়ক বলেও মন্তব্য করেন।
গ্রোটেনহুইস জানান, ডাচ সরকার বাংলাদেশের বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পিপিপি বিষয়ে একটি সমঝোতা স্মারক সই করতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের বাজারে দীর্ঘদিন পণ্য কিনে আসা ডাচ কোম্পানিগুলোর অনেকেই এখন সরাসরি বিনিয়োগে আগ্রহী বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মন্তব্য করুন