যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যে নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনায় মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। হরমুজ প্রণালীতে তিনটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজে ইরানের হামলার পর পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। যদিও ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনো বহাল রয়েছে।
বৃহস্পতিবার সংঘটিত এই হামলার পর ট্রাম্প বলেন, “তারা আজ আমাদের নিয়ে খেলতে চেয়েছিল। আমরা তাদের উড়িয়ে দিয়েছি।” তিনি ঘটনাটিকে ‘তুচ্ছ’ বলেও মন্তব্য করেন।
মার্কিন সামরিক বাহিনীর দাবি, ইরানি বাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে তিনটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে কোনো যুদ্ধজাহাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, হামলার জবাবে ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলোতে পাল্টা আঘাত হানা হয়েছে। একই সঙ্গে তারা বলেছে, উত্তেজনা বাড়ানো তাদের উদ্দেশ্য নয়, তবে মার্কিন বাহিনীর নিরাপত্তা নিশ্চিতে তারা প্রস্তুত রয়েছে।
অন্যদিকে তেহরান অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতি ভেঙে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রই তাদের তেলবাহী জাহাজে হামলা চালায়। এরপরই ইরানি বাহিনী ‘তাৎক্ষণিক জবাব’ হিসেবে মার্কিন সামরিক জাহাজে হামলা চালিয়েছে বলে দাবি করা হয়।
গত ৮ এপ্রিল কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির মাধ্যমে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের হামলার অবসান ঘটেছিল। সেই সময় ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে পাল্টা হামলা চালায় এবং বিশ্ব জ্বালানি পরিবহনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হরমুজ প্রণালী অবরোধ করে।
এর একদিন আগেই সম্ভাব্য সমঝোতা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছিলেন ট্রাম্প। তিনি বলেছিলেন, “আমরা চুক্তির খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছি।” তবে একই সঙ্গে সতর্ক করে দেন, তেহরান পিছু না হটলে আরও ভয়াবহ হামলা চালানো হবে।
বৃহস্পতিবারের ঘটনার পর নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে ট্রাম্প লেখেন, “ইরান যদি দ্রুত চুক্তিতে সই না করে, তাহলে ভবিষ্যতে আমরা আরও কঠোরভাবে জবাব দেব।”
এদিকে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাকাই জানিয়েছেন, মধ্যস্থতাকারী পাকিস্তান-এর কাছে তারা আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরবে।
সংঘাতের মধ্যেই পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরীফ আশাবাদ প্রকাশ করে বলেন, বর্তমান যুদ্ধবিরতি দীর্ঘমেয়াদি শান্তির পথে এগোতে পারে।
তবে সাধারণ ইরানিদের মধ্যে এখনো অনিশ্চয়তা ও শঙ্কা রয়ে গেছে। প্যারিসে অবস্থানরত ইরানি আলোকচিত্রী শেরভিন বলেন, “এটা ট্রাম্পের রাজনৈতিক কৌশল ছাড়া কিছু নয়। না হলে এত যুদ্ধজাহাজ ইরানের দিকে পাঠানো হচ্ছে কেন?”
এদিকে বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সমঝোতা হলে লেবানন-এর চলমান উত্তেজনাও কমতে পারে। সম্প্রতি দক্ষিণ বৈরুতে ইসরাইলি হামলায় হিজবুল্লাহ-এর এক কমান্ডার নিহত হওয়ার পর নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, আগামী ১৪ ও ১৫ মে ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে নতুন দফা আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বলেছেন, খুব শিগগিরই ইসরাইল-লেবাননের মধ্যে শান্তিচুক্তি সম্ভব হতে পারে।
মন্তব্য করুন