জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ২০১৪ এবং ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করা ২২ জন জেলা প্রশাসককে (ডিসি) বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এ পদক্ষেপটি প্রশাসনিক সংস্কার এবং সরকারের প্রশাসনিক ব্যবস্থায় স্বচ্ছতা আনার উদ্দেশ্যে নেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে গণমাধ্যমের সামনে এই তথ্য প্রকাশ করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব ড. মো. মোখলেস উর রহমান। তিনি জানান, ২০১৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তা হিসেবে যেসব ডিসি দায়িত্ব পালন করেছিলেন, তাদের মধ্যে এখনো চাকরি করছেন মাত্র চারজন। অন্যদিকে, ২০১৮ সালের নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্বে থাকা আরও ১৮ জন ডিসিকেও অবসরে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, এসব ডিসির অবসরের সিদ্ধান্তকে সরকারের পক্ষ থেকে প্রশাসনিক পুনর্গঠন হিসেবে দেখা হচ্ছে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে নতুনত্ব আনা এবং ভবিষ্যতে নির্বাচনী কার্যক্রমে কোনো বিতর্ক সৃষ্টি না হওয়া নিশ্চিত করা।
প্রশাসনিক পুনর্গঠন এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ভূমিকা: ২০১৪ ও ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে রিটার্নিং কর্মকর্তার দায়িত্ব পালন করা ডিসিদের কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন সময়ে আলোচনা ছিল। সরকারের পক্ষ থেকে তাদের অবসরে পাঠানোর সিদ্ধান্তের মাধ্যমে প্রশাসনের কার্যক্রমে পরিবর্তন আনার পাশাপাশি জনগণের মধ্যে প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং দায়িত্বশীলতার বার্তা দেওয়া হচ্ছে।
তবে, এই পদক্ষেপের রাজনৈতিক এবং প্রশাসনিক প্রভাবও রয়েছে। বিশেষ করে, নির্বাচনী দায়িত্ব পালনকালে কিছু ডিসির কর্মকাণ্ড নিয়ে নানা বিতর্ক থাকায়, সরকারের এই সিদ্ধান্তকে প্রশাসনিক পরিষ্কারতা ও নতুন নেতৃত্বের প্রয়োজন হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রশাসনিক শুদ্ধাচার নিশ্চিত করতে এমন পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
অবসরপ্রাপ্ত ডিসিদের পরবর্তী পদক্ষেপ: যেহেতু তারা নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন, তাদের অবসরের পর নতুন কর্মকর্তাদের দায়িত্বে নিয়োগ দেওয়া হবে, যা প্রশাসনিক কাজের গতিপথ বদলে দিতে পারে। পরবর্তী ডিসিরা নির্বাচনী প্রস্তুতি এবং প্রশাসনিক কার্যক্রমে নতুন ধারার নেতৃত্ব প্রদান করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন