
সকালে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এক অনুপ্রত্যাশিত দৃশ্যের জন্ম হয়, যখন সাবেক মন্ত্রী ও উচ্চ পদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের দুই হাত পেছনে বাঁধা অবস্থায় হাজতখানার বাইরে আনা হয়। এই ঘটনাটি সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ এবং বক্তব্য প্রকাশ করার প্রবণতা বন্ধ করার উদ্দেশ্যে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর বিশেষ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা যাচ্ছে।
আজকের ঘটনাটিতে সাবেক তথ্য ও প্রযুক্তি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহ্মেদ পলক, সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানসহ একাধিক সাবেক সরকারি কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। তাদের হাতে পরানো হাতকড়া, মাথায় পুলিশের হেলমেট, এবং বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। আসামিদের এই অবস্থান তাদের আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখার পাশাপাশি, তাদের প্রতিবাদী বক্তব্য বন্ধ করার জন্য নেওয়া হয়েছে এমন এক পদক্ষেপ।
পুলিশের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে যে, এই ধরনের কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে যাতে কোনো আসামি আদালতে আসার সময় হাত উঁচু করে সরকারবিরোধী বক্তব্য দিতে না পারে। এমনকি পলক নিজে আদালতে দাঁড়িয়ে তার আইনজীবীর সঙ্গে কথা বলার সময় বলেছিলেন, “আমি জামিনের আশা করি না, তবে আমার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রতিটি এজাহার ও অভিযোগপত্রের হুবহু অনুলিপি চাই।”
এই কৌশলটি বিশেষভাবে রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে, কারণ এটি শুধুই আইনি ব্যবস্থার অংশ কিনা, নাকি রাজনৈতিক প্রতিবাদ রোধের জন্য সরকারের একটি পরিকল্পিত পদক্ষেপ—এ প্রশ্ন উঠছে। সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের ছেলে শাফি মুদ্দাসির খান ও সাবেক সিনিয়র সচিব মহিবুল হকসহ অন্যান্য আসামিরাও একই অবস্থায় ছিলেন। এর মাধ্যমে সরকারের দমনমূলক মনোভাব এবং বিরোধী পক্ষের মুখ বন্ধ রাখতে এরকম পদক্ষেপের বার্তা পাওয়া যায়।
এ ঘটনা ভবিষ্যতে আরও বড় রাজনৈতিক অস্থিরতার জন্ম দিতে পারে, যেখানে আইনের প্রয়োগের আড়ালে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য অনুসরণ করা হচ্ছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মন্তব্য করুন