
খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুয়েট) ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনায় অজ্ঞাতনামা ৪০০-৫০০ জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ ও সন্ত্রাসবিরোধী ‘লাল কার্ড’ প্রদর্শন করেছে সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
বৃহস্পতিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে দুর্বার বাংলা প্রাঙ্গণে শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেন। তারা হামলাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার, ছাত্ররাজনীতি নিষিদ্ধকরণের সিদ্ধান্ত কার্যকরের দাবি জানান। একই সঙ্গে উপাচার্য, উপ-উপাচার্য ও ছাত্রকল্যাণ পরিচালকের পদে নতুন নিয়োগের আহ্বান জানান।
সংঘর্ষের ঘটনায় কুয়েটের নিরাপত্তা পরিদর্শক মনিরুজ্জামান লিটন বুধবার রাতে খানজাহান আলী থানায় মামলা করেন। এতে চার থেকে পাঁচ শ’ জনকে আসামি করা হয়েছে। ক্যাম্পাসের গেটে মোতায়েন রয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ, আর সিন্ডিকেট সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী ২৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বন্ধ থাকবে একাডেমিক কার্যক্রম।
বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, কুয়েটে কোনো শিক্ষার্থী রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হলে তাকে আজীবন বহিষ্কার করা হবে। একই নিয়ম প্রযোজ্য থাকবে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের জন্যও। বুধবার অনুষ্ঠিত ৯৩তম সিন্ডিকেট সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
ঘটনার তদন্তে কম্পিউটার সায়েন্স বিভাগের অধ্যাপক এম এম এ হাসেমের নেতৃত্বে চার সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে তিন কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে। এছাড়া বহিরাগতদের বিরুদ্ধে মামলা, হামলাকারী শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার এবং আহতদের চিকিৎসা ব্যয়ের দায়িত্ব নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
বুধবার সকালে উপাচার্য ও উপ-উপাচার্যের পদত্যাগসহ ৬ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করে শিক্ষার্থীরা। দুপুর ১টার মধ্যে দাবি পূরণ না হওয়ায় প্রশাসনিক ভবনসহ সাতটি একাডেমিক ভবনে তালা ঝুলিয়ে দেন তারা।
কুয়েটের সাম্প্রতিক অস্থিরতা ছাত্ররাজনীতির ভবিষ্যৎ এবং শিক্ষাঙ্গনের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকেই নজর সবার।
মন্তব্য করুন