সাভারের ডিইপিজেড এলাকায় গার্মেন্টস কোম্পানি ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্টদের যোগসাজশে সরকারি শুল্ক ফাঁকি দিয়ে কমপক্ষে ২৬০ কোটি টাকা আত্মসাতের চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। এই কেলেঙ্কারিতে জড়িত আছেন অন্তত ১০ জন বড় প্রভাবশালী ব্যক্তি, যাদের বিরুদ্ধে সিআইডি ইতিমধ্যে মানি লন্ডারিং আইনে মামলা করেছে।
সরকার রপ্তানিমুখী গার্মেন্টস শিল্পের জন্য শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দেয়, শর্ত থাকে — এই পণ্য কেবল রপ্তানির জন্য ব্যবহার করা যাবে। কিন্তু চক্রটি এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে আমদানি করা ফেব্রিক্স ও অন্যান্য উপকরণ খোলাবাজারে বিক্রি করে দিত, ফলে সরকারের বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ক্ষতি হতো।
মেসার্স গোল্ডটেক্স গার্মেন্টস লিমিটেডের সাথে সংশ্লিষ্ট দুই সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট — স্পিডওয়ে লজিস্টিকস ও এএফটি লজিস্টিকসের কর্ণধার মো. খসরুল আলম এই চক্রের কেন্দ্রে ছিলেন। তিনি ২০১৮ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে ২৬৮টি চালানে ২৬০ কোটি ৫২ লাখ টাকার শুল্ক ফাঁকি দেন।
তদন্তে অভিযুক্তদের নামে-বেনামে দেশে-বিদেশে বিপুল সম্পদের তথ্য বেরিয়ে এসেছে:
মো. খসরুল আলম: ১২৫ কোটি টাকা লেনদেন, ৮৪টি গাড়ি, জমি, ফ্ল্যাট, এফডিআর ও বীমা।
তানভীর হোসেন (গোল্ডটেক্সের পরিচালক): দেশে ও অস্ট্রেলিয়ায় অন্তত ৮টি সম্পত্তি, ৭৪ কোটি টাকার লেনদেন।
গোলাম সাত্তার (সিনিয়র ম্যানেজার): ১০ কোটি টাকার ব্যাংক লেনদেন, বিলাসবহুল গাড়ি, আমদানি জালিয়াতি।
অভিযুক্তরা অনেকে নিজেদের নির্দোষ দাবি করছেন, কেউ বলছেন — সব লোনের টাকা, কেউ বা বলছেন তারা কেবল কর্মচারী। তবে সিআইডি বলছে, পর্যাপ্ত নথিপত্র ও ব্যাংক হিসাব বিশ্লেষণে শুল্ক ফাঁকি ও অর্থপাচারের প্রমাণ স্পষ্ট।
এই কেলেঙ্কারি শুধু সরকারি রাজস্ব ক্ষতিই নয়, বরং দেশের শিল্প খাতের জন্য বড় হুমকি। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত ব্যবস্থা নিলে এ ধরনের দুর্নীতি রোধ করা সম্ভব। জনগণ এখন চায় অপরাধীরা শাস্তি পাক, আর রাষ্ট্রের টাকা রাষ্ট্রেই থাকুক!
মন্তব্য করুন